

মোঃ শিবলু মিয়া, মোকামতলা (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতালায় দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ জালের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা মৎস্য দপ্তর। মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে করতোয়া নদী থেকে অবৈধ চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল উদ্ধার করে জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মোকামতলা উপজেলার শিবগঞ্জ ইউনিয়নের চকগোপাল এলাকায় করতোয়া নদীর বিভিন্ন স্থানে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ শিকারের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা মৎস্য দপ্তর এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে নদীতে পেতে রাখা তিনটি অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার শেষে জব্দকৃত জালগুলো জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে এগুলো আর ব্যবহার করা না যায়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম সাবুর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, ক্ষেত্র সহকারী মাহমুদুল নবীসহ উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব জাল ব্যবহার করলে ছোট মাছ, রেণু পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ে, ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হয় এবং নদীর জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। এ কারণে আইন অনুযায়ী অবৈধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের নদ-নদী, খাল-বিল ও উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে উপজেলা মৎস্য দপ্তর সবসময় তৎপর রয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অবৈধ জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাই সকল জেলেকে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার থেকে বিরত থেকে বৈধ উপায়ে মাছ আহরণের আহ্বান জানান তিনি।
প্রযুক্তি সহায়তায়: Star Web Host It
Leave a Reply