7:43 am, Thursday, 22 October 2026

শ্রীনগরে বেদনা-বিধুর পরিবেশে দুর্গা দেবীর বিসর্জন

আব্দুল মান্নান সিদ্দিকী, শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ)

সারাদেশের মতো মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরেও ছয় দিনব্যাপী নানা আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। আনন্দ-উৎসবের পর দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে গিয়ে ভক্তদের মধ্যে নেমে আসে বিষাদের ছায়া।

পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিবাহিত সনাতন নারীরা একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে দেন। সিঁদুর খেলায় অংশ নিয়ে তাঁরা আনন্দে মেতে ওঠেন। এ সময় পূজামণ্ডপগুলোতে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে প্রতিমা বিসর্জনের সময় আনন্দের পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করে আবেগঘন পরিবেশ। অশ্রুসিক্ত নয়নে তাঁরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান।

বিসর্জনস্থলে উপস্থিত শত শত ভক্ত দেবীকে বিদায় জানাতে আসেন। তাঁদের অনেকের মনেই ছিল আগামী বছর আবারও দেবীকে বরণ করে নেওয়ার অপেক্ষা।

স্থানীয় পল্লিচিকিৎসক উত্তম দেবনাথ বলেন, প্রতিবছরই দুর্গোৎসব আনন্দের সঙ্গে উদ্‌যাপিত হয়। তবে এ বছর উৎসবের আমেজ ছিল আরও বেশি। সপ্তমী তিথি দুই দিন হওয়ায় পাঁচ দিনের পরিবর্তে ছয় দিন ধরে উৎসব উদ্‌যাপিত হয়েছে।

তিনি জানান, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে অঞ্জলি দেওয়া, প্রসাদ গ্রহণ ও আরতিতে অংশ নিয়ে উৎসব উপভোগ করেছেন। তবে বিসর্জনের দিনে মায়ের বিদায়ে তাঁর মন খারাপ হয়ে আছে। আবারও এই উৎসবের জন্য একটি বছর অপেক্ষা করতে হবে। তাই দেবীকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে তিনি বিসর্জনস্থলে ছুটে এসেছেন।

এ বছর শ্রীনগর উপজেলায় ৮৫টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোর আশপাশে বসেছিল অস্থায়ী দোকানপাট। এসব দোকানে শিশুদের খেলনা ও বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের পসরা সাজানো হয়। দর্শনার্থী ও ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সেখান থেকে বিভিন্ন পণ্য ও খাবার কেনেন।

পূজামণ্ডপগুলোতে ছিল বর্ণিল আলোকসজ্জা ও সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নেওয়া হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। ফলে পূজামণ্ডপগুলোতে উৎসব উদ্‌যাপনে ছিল ব্যাপক প্রস্তুতি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা পূজারিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শ্রীনগরে ছয় দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটে। আনন্দঘন আয়োজনের পর দেবীকে বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের কণ্ঠে ছিল আগামী বছর আবারও ফিরে আসার প্রত্যাশা।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক পরিচিতি

জনপ্রিয় পোস্ট

টেকনাফে এপিবিএন-পুলিশের যৌথ অভিযানে ৩ আসামি গ্রেপ্তার

শ্রীনগরে বেদনা-বিধুর পরিবেশে দুর্গা দেবীর বিসর্জন

আপডেটের সময় : 05:45:02 pm, Wednesday, 21 October 2026

আব্দুল মান্নান সিদ্দিকী, শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ)

সারাদেশের মতো মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরেও ছয় দিনব্যাপী নানা আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। আনন্দ-উৎসবের পর দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে গিয়ে ভক্তদের মধ্যে নেমে আসে বিষাদের ছায়া।

পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিবাহিত সনাতন নারীরা একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে দেন। সিঁদুর খেলায় অংশ নিয়ে তাঁরা আনন্দে মেতে ওঠেন। এ সময় পূজামণ্ডপগুলোতে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে প্রতিমা বিসর্জনের সময় আনন্দের পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করে আবেগঘন পরিবেশ। অশ্রুসিক্ত নয়নে তাঁরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান।

বিসর্জনস্থলে উপস্থিত শত শত ভক্ত দেবীকে বিদায় জানাতে আসেন। তাঁদের অনেকের মনেই ছিল আগামী বছর আবারও দেবীকে বরণ করে নেওয়ার অপেক্ষা।

স্থানীয় পল্লিচিকিৎসক উত্তম দেবনাথ বলেন, প্রতিবছরই দুর্গোৎসব আনন্দের সঙ্গে উদ্‌যাপিত হয়। তবে এ বছর উৎসবের আমেজ ছিল আরও বেশি। সপ্তমী তিথি দুই দিন হওয়ায় পাঁচ দিনের পরিবর্তে ছয় দিন ধরে উৎসব উদ্‌যাপিত হয়েছে।

তিনি জানান, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে অঞ্জলি দেওয়া, প্রসাদ গ্রহণ ও আরতিতে অংশ নিয়ে উৎসব উপভোগ করেছেন। তবে বিসর্জনের দিনে মায়ের বিদায়ে তাঁর মন খারাপ হয়ে আছে। আবারও এই উৎসবের জন্য একটি বছর অপেক্ষা করতে হবে। তাই দেবীকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে তিনি বিসর্জনস্থলে ছুটে এসেছেন।

এ বছর শ্রীনগর উপজেলায় ৮৫টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোর আশপাশে বসেছিল অস্থায়ী দোকানপাট। এসব দোকানে শিশুদের খেলনা ও বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের পসরা সাজানো হয়। দর্শনার্থী ও ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সেখান থেকে বিভিন্ন পণ্য ও খাবার কেনেন।

পূজামণ্ডপগুলোতে ছিল বর্ণিল আলোকসজ্জা ও সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নেওয়া হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। ফলে পূজামণ্ডপগুলোতে উৎসব উদ্‌যাপনে ছিল ব্যাপক প্রস্তুতি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা পূজারিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শ্রীনগরে ছয় দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটে। আনন্দঘন আয়োজনের পর দেবীকে বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের কণ্ঠে ছিল আগামী বছর আবারও ফিরে আসার প্রত্যাশা।