6:50 am, Thursday, 22 October 2026

১৩ অক্টোবরের মধ্যে দেয়াল নির্মাণ না হলে পূজা বর্জনের ঘোষণা উখিয়ায়

সমীর রুদ্র,

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার দারোগা বাজার কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান ও দুর্গা মন্দিরের মাঝখানে অরক্ষিত স্থানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের দাবিতে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে স্থানীয় একটি সনাতনী সংগঠন। এ সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ১৪ অক্টোবর থেকে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে উখিয়া উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুর্গাপূজার প্রস্তুতিমূলক সভায় এ দাবি জানানো হয়। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তারের কাছে লিখিত স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন উখিয়া দারোগা বাজার সমাজ শ্মশান, ভৈরব ও দুর্গা মন্দির উন্নয়ন এবং পরিচালনা পরিষদের প্রতিনিধিরা। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক রতন কান্তি দে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, দারোগা বাজার কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতিতে গত ৬ অক্টোবর প্রাচীর পুনর্নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। তবে নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও প্রাচীরের পাশে প্রায় ৮ থেকে ১০ ফুট জায়গা এখনো অরক্ষিত রয়েছে। এতে শ্মশান ও দুর্গা মন্দিরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির।

এ অবস্থায় আগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে অরক্ষিত স্থানে দেয়াল নির্মাণের দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ১৪ অক্টোবর থেকে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

সংগঠনটির অভিযোগ, প্রতি বছর দুর্গাপূজার আগে এবং বিভিন্ন সময়ে শ্মশানের গাছ কাটা, মাটি কাটা ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার মতো ঘটনা ঘটে। এতে শ্মশানের পরিবেশ ও পবিত্রতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

লিখিত আবেদনে আরও বলা হয়, গত ৯ অক্টোবর রাতে সংগঠনটির উপদেষ্টা, কার্যকরী পরিষদ ও সমাজের সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সভায় অরক্ষিত স্থানে দেয়াল নির্মাণ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রস্তুতিমূলক সভায় এ দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি ও প্যানেল চেয়ারম্যান স্বপন শর্মা রনি, সাধারণ সম্পাদক মাস্টার রুপন দেওয়ানজী এবং হিন্দু পরিষদ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট রবীন্দ্র দাশ রবি।

সংগঠনটি উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেছে। তবে এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অরক্ষিত অংশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া এবং ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্টদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক পরিচিতি

জনপ্রিয় পোস্ট

টেকনাফে এপিবিএন-পুলিশের যৌথ অভিযানে ৩ আসামি গ্রেপ্তার

১৩ অক্টোবরের মধ্যে দেয়াল নির্মাণ না হলে পূজা বর্জনের ঘোষণা উখিয়ায়

আপডেটের সময় : 03:42:10 pm, Sunday, 11 October 2026

সমীর রুদ্র,

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার দারোগা বাজার কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান ও দুর্গা মন্দিরের মাঝখানে অরক্ষিত স্থানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের দাবিতে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে স্থানীয় একটি সনাতনী সংগঠন। এ সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ১৪ অক্টোবর থেকে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে উখিয়া উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুর্গাপূজার প্রস্তুতিমূলক সভায় এ দাবি জানানো হয়। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তারের কাছে লিখিত স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন উখিয়া দারোগা বাজার সমাজ শ্মশান, ভৈরব ও দুর্গা মন্দির উন্নয়ন এবং পরিচালনা পরিষদের প্রতিনিধিরা। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক রতন কান্তি দে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, দারোগা বাজার কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতিতে গত ৬ অক্টোবর প্রাচীর পুনর্নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। তবে নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও প্রাচীরের পাশে প্রায় ৮ থেকে ১০ ফুট জায়গা এখনো অরক্ষিত রয়েছে। এতে শ্মশান ও দুর্গা মন্দিরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির।

এ অবস্থায় আগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে অরক্ষিত স্থানে দেয়াল নির্মাণের দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ১৪ অক্টোবর থেকে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

সংগঠনটির অভিযোগ, প্রতি বছর দুর্গাপূজার আগে এবং বিভিন্ন সময়ে শ্মশানের গাছ কাটা, মাটি কাটা ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার মতো ঘটনা ঘটে। এতে শ্মশানের পরিবেশ ও পবিত্রতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

লিখিত আবেদনে আরও বলা হয়, গত ৯ অক্টোবর রাতে সংগঠনটির উপদেষ্টা, কার্যকরী পরিষদ ও সমাজের সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সভায় অরক্ষিত স্থানে দেয়াল নির্মাণ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রস্তুতিমূলক সভায় এ দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি ও প্যানেল চেয়ারম্যান স্বপন শর্মা রনি, সাধারণ সম্পাদক মাস্টার রুপন দেওয়ানজী এবং হিন্দু পরিষদ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট রবীন্দ্র দাশ রবি।

সংগঠনটি উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেছে। তবে এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অরক্ষিত অংশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া এবং ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্টদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।