6:49 am, Thursday, 22 October 2026

মনপুরায় ঢিলেঢালা ভাবে চলছে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান-ঘাটে ঘাটে বরফ জাল নিয়ে প্রস্তুত অর্ধশত ট্রলার

 

মনপুরা প্রতিনিধি:

ভোলার মনপুরায় নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য ঘাটে বরফ ও জাল প্রস্তুত করে মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকারে নামার সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রলারমালিক ও জেলেরা। আংশিক কিছু ট্রলারে অভিযান চালানো হলেও অধিকাংশ নৌযান অভিযানের বাইরে থেকে যাওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা ও তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য ঘাট ঘুরে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের জনতা বাজার মৎস্য ঘাট,লতাখালি, তালতলা, মাঝেরঘাট ও আনন্দ বাজার ব্রিজ ঘাটসহ একাধিক স্পটে ইলিশ শিকারের ব্যাপক প্রস্তুতি চোখে পড়ে।প্রতিটি ঘাটে বরফ ও জাল বোঝাই করে কমপক্ষে অর্ধশত টির বেশি নৌকা ও ট্রলারকে মেঘনায় নামার জন্য প্রস্তুত অবস্থায় দেখা গেছে।তবে জনতা বাজার অভিযান হলেও রয়ে গেছে বেশ কয়েকটি বোট।

এদিকে সূত্র বলছে বোট প্রতি মাসোআরা দিয়ে মৎস্য দপ্তর কে ম্যানেজ করে নিয়েছে তারা।তবে মৎস্য দপ্তর বলছে এ বিষয়ে কিছুই জানেননা তারা।সুতারাং মৎস্য দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে রয়েছে জনমনে ক্ষোভ। কতটা কার্যকর করতে পারবে অভিযান  তা দেখার বিষয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে জানান, প্রশাসনকে এক প্রকার অকার্যকর রেখে বা ম্যানেজ করে ছোট-বড় অনেক নৌকা নিয়মিত মেঘনা নদীতে নেমে মাছ শিকার চালিয়ে যাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে ঘাটে ঘাটে প্রকাশ্যে নৌকায় বরফ ও জাল মজুত করে রাখা হলেও কঠোর আইনি ব্যবস্থার অভাব দেখা যাচ্ছে।

অভিযানের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে মনপুরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা জানান, “আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। তবে তীব্র জনবলসংকটের কারণে সব নৌকায় একযোগে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পুনরায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে, তা না হলে আমাদের কাজের স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন থেকে যাবে।”

অন্যদিকে অভিযানের বিষয়ে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব জানান, “অভিযান ইতোমধ্যে চালানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নামার চেষ্টা করা হলে কিংবা বরফ-জাল মজুত রাখলে প্রয়োজনে আরও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নিয়মিত ও জোরালো টহলের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক পরিচিতি

জনপ্রিয় পোস্ট

টেকনাফে এপিবিএন-পুলিশের যৌথ অভিযানে ৩ আসামি গ্রেপ্তার

মনপুরায় ঢিলেঢালা ভাবে চলছে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান-ঘাটে ঘাটে বরফ জাল নিয়ে প্রস্তুত অর্ধশত ট্রলার

আপডেটের সময় : 10:54:30 am, Friday, 16 October 2026

 

মনপুরা প্রতিনিধি:

ভোলার মনপুরায় নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য ঘাটে বরফ ও জাল প্রস্তুত করে মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকারে নামার সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রলারমালিক ও জেলেরা। আংশিক কিছু ট্রলারে অভিযান চালানো হলেও অধিকাংশ নৌযান অভিযানের বাইরে থেকে যাওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা ও তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য ঘাট ঘুরে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের জনতা বাজার মৎস্য ঘাট,লতাখালি, তালতলা, মাঝেরঘাট ও আনন্দ বাজার ব্রিজ ঘাটসহ একাধিক স্পটে ইলিশ শিকারের ব্যাপক প্রস্তুতি চোখে পড়ে।প্রতিটি ঘাটে বরফ ও জাল বোঝাই করে কমপক্ষে অর্ধশত টির বেশি নৌকা ও ট্রলারকে মেঘনায় নামার জন্য প্রস্তুত অবস্থায় দেখা গেছে।তবে জনতা বাজার অভিযান হলেও রয়ে গেছে বেশ কয়েকটি বোট।

এদিকে সূত্র বলছে বোট প্রতি মাসোআরা দিয়ে মৎস্য দপ্তর কে ম্যানেজ করে নিয়েছে তারা।তবে মৎস্য দপ্তর বলছে এ বিষয়ে কিছুই জানেননা তারা।সুতারাং মৎস্য দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে রয়েছে জনমনে ক্ষোভ। কতটা কার্যকর করতে পারবে অভিযান  তা দেখার বিষয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে জানান, প্রশাসনকে এক প্রকার অকার্যকর রেখে বা ম্যানেজ করে ছোট-বড় অনেক নৌকা নিয়মিত মেঘনা নদীতে নেমে মাছ শিকার চালিয়ে যাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে ঘাটে ঘাটে প্রকাশ্যে নৌকায় বরফ ও জাল মজুত করে রাখা হলেও কঠোর আইনি ব্যবস্থার অভাব দেখা যাচ্ছে।

অভিযানের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে মনপুরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা জানান, “আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। তবে তীব্র জনবলসংকটের কারণে সব নৌকায় একযোগে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পুনরায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে, তা না হলে আমাদের কাজের স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন থেকে যাবে।”

অন্যদিকে অভিযানের বিষয়ে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব জানান, “অভিযান ইতোমধ্যে চালানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নামার চেষ্টা করা হলে কিংবা বরফ-জাল মজুত রাখলে প্রয়োজনে আরও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নিয়মিত ও জোরালো টহলের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।