8:44 pm, Tuesday, 22 September 2026

লাকসামে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

রিয়াদ হোসাইন, লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

কুমিল্লার লাকসামে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে আবু ছাইদ (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে লাকসাম পৌরসভার ধানবাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আবু ছাইদ উপজেলার সাতঘর ইছাপুরা এলাকার হাসেম দপ্তরীর বাড়ির বাসিন্দা। তিনি মৃত আলী হোসেনের ছেলে এবং পেশায় দিনমজুর।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির মা পাশের বাড়িতে পানি আনতে গেলে শিশুটি বাড়িতে একা ছিল। এ সময় আবু ছাইদ ওই ঘরে প্রবেশ করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি শিশুটির পোশাক খুলে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শিশুটি কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে তার মা বাড়িতে ফিরে আসেন। শিশুটির কাছ থেকে ঘটনা জানার পর তিনি থানায় অভিযোগ করেন। মামলার এজাহারে শিশুটির মা আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত আবু ছাইদ তাঁদের আত্মীয়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর লাকসাম থানায় মামলা করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৪)(খ) ধারায় করা হয়েছে। মামলায় আবু ছাইদকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লাকসাম থানার এসআই মো. সিরাজুল ইসলাম আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, আসামিকে ১৯ সেপ্টেম্বর লাকসাম পৌরসভার ধানবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার ঘটনার সঙ্গে আসামির জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেন, মামলাটির সার্বিক তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে জেলহাজতে আটক রাখা প্রয়োজন। এ কারণে তাঁকে জেলহাজতে রাখার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

লাকসাম থানার ওসি কাজী কামরুন নাহার লাইলী, জানিয়েছে, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক পরিচিতি

জনপ্রিয় পোস্ট

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ: ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনে হয়রানী ও বৈষম্যের প্রতিবাদে চার মৌজাবাসীর মানববন্ধন

লাকসামে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

আপডেটের সময় : 08:45:37 am, Sunday, 20 September 2026

রিয়াদ হোসাইন, লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

কুমিল্লার লাকসামে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে আবু ছাইদ (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে লাকসাম পৌরসভার ধানবাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আবু ছাইদ উপজেলার সাতঘর ইছাপুরা এলাকার হাসেম দপ্তরীর বাড়ির বাসিন্দা। তিনি মৃত আলী হোসেনের ছেলে এবং পেশায় দিনমজুর।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির মা পাশের বাড়িতে পানি আনতে গেলে শিশুটি বাড়িতে একা ছিল। এ সময় আবু ছাইদ ওই ঘরে প্রবেশ করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি শিশুটির পোশাক খুলে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শিশুটি কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে তার মা বাড়িতে ফিরে আসেন। শিশুটির কাছ থেকে ঘটনা জানার পর তিনি থানায় অভিযোগ করেন। মামলার এজাহারে শিশুটির মা আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত আবু ছাইদ তাঁদের আত্মীয়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর লাকসাম থানায় মামলা করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৪)(খ) ধারায় করা হয়েছে। মামলায় আবু ছাইদকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লাকসাম থানার এসআই মো. সিরাজুল ইসলাম আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, আসামিকে ১৯ সেপ্টেম্বর লাকসাম পৌরসভার ধানবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার ঘটনার সঙ্গে আসামির জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেন, মামলাটির সার্বিক তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে জেলহাজতে আটক রাখা প্রয়োজন। এ কারণে তাঁকে জেলহাজতে রাখার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

লাকসাম থানার ওসি কাজী কামরুন নাহার লাইলী, জানিয়েছে, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।