11:05 pm, Tuesday, 22 September 2026

চাঁদপুরে আদালত বর্জনের পর এবার তিন বিচারকের প্রত্যাহার চান আইনজীবীরা

এমতেয়াজ পাটওয়ারী ফরহাদ চাঁদপুর :

চাঁদপুরে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ তিন বিচারকের আদালত বর্জনের কর্মসূচি গড়িয়েছে আরও তীব্র আন্দোলনে। এবার ওই তিন বিচারককে অবিলম্বে চাঁদপুর থেকে প্রত্যাহার করার জোরালো দাবি জানিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সমিতির শীর্ষ নেতারা।

​আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে চাঁদপুর আদালত প্রাঙ্গণে জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজনে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মন্টুর সভাপতিত্বে এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম মেহেদীর সঞ্চালনায় সভায় সমিতির বিভিন্ন স্তরের নেতারা বক্তব্য দেন।

​সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মন্টু বলেন, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক পলাশ বর্ধ্বন এবং সদর সিনিয়র সহকারী সিভিল জজ শম্পা ইসলামের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রায় সাড়ে ৪০০ আইনজীবীর উপস্থিতিতে বারের জরুরি সাধারণ সভায় ওই তিন বিচারকের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

​তিনি আরও বলেন, আদালত বর্জনের পর বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সুরাহা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ওই তিন বিচারককে প্রত্যাহার করার ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই দাবি বাস্তবায়ন না করা হয়, তবে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

​বিচারকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে শামছুল ইসলাম মন্টু অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত তিন বিচারক আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন এবং তাদের ভয় দেখিয়েছেন। তবে এসব হুমকিতে আইনজীবীরা কখনো ভয় পান না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৮৬ সাল থেকে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই আইনজীবীরা আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। আইনজীবীরা মূলত বিচারপ্রার্থীদের আইনি অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পক্ষেই বিচারকদের সঙ্গে কথা বলেন, এখানে তাদের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না, কারণ আইনজীবীরা সবসময় এক ও অভিন্ন। কোনো নির্দিষ্ট আইনজীবীর বিরুদ্ধে অন্যায় পদক্ষেপ নেওয়া হলে পুরো আইনজীবী সমাজ তার তীব্র ও কঠোর জবাব দেবে।

​প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন তালুকদার ফয়সাল, সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সেলিম আকবর, সিনিয়র আইনজীবী মো. ইব্রাহীম, এ টি এম মোস্তফা কামাল, হুমায়ুন কবির, এমরান হোসেন, জিপি এ জেড এম রফিকুল হাসান রিপন, হারুনুর রশিদ, অ্যাডভোকেট নুরুল আলম খান আকাশ, কাদের খান, শামীম হোসেন, হেদায়েত উল্যাহ, নাজিম উল্লাহ বাপ্পি, আজহার ও আলম খান মঞ্জু।

​বক্তারা বলেন, বিচারক ও আইনজীবীদের মধ্যে সৃষ্ট বর্তমান সমন্বয়হীনতা আলোচনার মাধ্যমে দূর করা জরুরি। একই সঙ্গে সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা যাতে আদালতে এসে কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও সংশ্লিষ্ট সবার সজাগ দৃষ্টি রাখা উচিত।

​প্রতিবাদ সভা শেষে আইনজীবীরা একটি বিশাল ব্যানার নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আদালত চত্বরে এসে সমাপ্ত হয়।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক পরিচিতি

জনপ্রিয় পোস্ট

দুপচাঁচিয়ায় যুবদলের ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান

চাঁদপুরে আদালত বর্জনের পর এবার তিন বিচারকের প্রত্যাহার চান আইনজীবীরা

আপডেটের সময় : 02:06:50 pm, Sunday, 13 September 2026

এমতেয়াজ পাটওয়ারী ফরহাদ চাঁদপুর :

চাঁদপুরে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ তিন বিচারকের আদালত বর্জনের কর্মসূচি গড়িয়েছে আরও তীব্র আন্দোলনে। এবার ওই তিন বিচারককে অবিলম্বে চাঁদপুর থেকে প্রত্যাহার করার জোরালো দাবি জানিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সমিতির শীর্ষ নেতারা।

​আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে চাঁদপুর আদালত প্রাঙ্গণে জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজনে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মন্টুর সভাপতিত্বে এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম মেহেদীর সঞ্চালনায় সভায় সমিতির বিভিন্ন স্তরের নেতারা বক্তব্য দেন।

​সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মন্টু বলেন, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক পলাশ বর্ধ্বন এবং সদর সিনিয়র সহকারী সিভিল জজ শম্পা ইসলামের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রায় সাড়ে ৪০০ আইনজীবীর উপস্থিতিতে বারের জরুরি সাধারণ সভায় ওই তিন বিচারকের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

​তিনি আরও বলেন, আদালত বর্জনের পর বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সুরাহা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ওই তিন বিচারককে প্রত্যাহার করার ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই দাবি বাস্তবায়ন না করা হয়, তবে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

​বিচারকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে শামছুল ইসলাম মন্টু অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত তিন বিচারক আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন এবং তাদের ভয় দেখিয়েছেন। তবে এসব হুমকিতে আইনজীবীরা কখনো ভয় পান না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৮৬ সাল থেকে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই আইনজীবীরা আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। আইনজীবীরা মূলত বিচারপ্রার্থীদের আইনি অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পক্ষেই বিচারকদের সঙ্গে কথা বলেন, এখানে তাদের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না, কারণ আইনজীবীরা সবসময় এক ও অভিন্ন। কোনো নির্দিষ্ট আইনজীবীর বিরুদ্ধে অন্যায় পদক্ষেপ নেওয়া হলে পুরো আইনজীবী সমাজ তার তীব্র ও কঠোর জবাব দেবে।

​প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন তালুকদার ফয়সাল, সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সেলিম আকবর, সিনিয়র আইনজীবী মো. ইব্রাহীম, এ টি এম মোস্তফা কামাল, হুমায়ুন কবির, এমরান হোসেন, জিপি এ জেড এম রফিকুল হাসান রিপন, হারুনুর রশিদ, অ্যাডভোকেট নুরুল আলম খান আকাশ, কাদের খান, শামীম হোসেন, হেদায়েত উল্যাহ, নাজিম উল্লাহ বাপ্পি, আজহার ও আলম খান মঞ্জু।

​বক্তারা বলেন, বিচারক ও আইনজীবীদের মধ্যে সৃষ্ট বর্তমান সমন্বয়হীনতা আলোচনার মাধ্যমে দূর করা জরুরি। একই সঙ্গে সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা যাতে আদালতে এসে কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও সংশ্লিষ্ট সবার সজাগ দৃষ্টি রাখা উচিত।

​প্রতিবাদ সভা শেষে আইনজীবীরা একটি বিশাল ব্যানার নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আদালত চত্বরে এসে সমাপ্ত হয়।