

আব্দুর রাজ্জাক, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার দক্ষিণ বালাপাড়া পশ্চিমপাড়া এলাকার স্বতন্ত্র পশ্চিমপাড়া দক্ষিণ বালাপাড়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসাকে ঘিরে ভয়াবহ অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, বহু বছর ধরে মাদ্রাসাটিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই, শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ, শিক্ষকরা নিয়মিত উপস্থিত হন না। অথচ সরকারি নথিতে প্রতিষ্ঠানটি সচল দেখিয়ে প্রতি মাসেই চারজন শিক্ষকের বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষা বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশ ছাড়া এমন অনিয়ম বছরের পর বছর চলতে পারে না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসাটিতে যাওয়ার মতো কোনো চলাচলযোগ্য রাস্তা নেই। পুরো প্রতিষ্ঠানটি আগাছা ও ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। টিনশেড ভবনটি জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নেই, শ্রেণিকক্ষ বন্ধ, এমনকি প্রতিষ্ঠানটির নামফলকও খুঁজে পাওয়া যায়নি। দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি চালু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বহু বছর ধরে মাদ্রাসাটি কার্যত অচল। অথচ সরকারি কাগজপত্রে প্রতিষ্ঠানটি সচল দেখিয়ে নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে রাষ্ট্রের লাখ লাখ টাকা অপচয় ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন,
“মাদ্রাসায় কোনো ছাত্র-ছাত্রী নেই, শিক্ষকও আসেন না। তারপরও প্রতি মাসে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন হচ্ছে। শিক্ষা অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশ ছাড়া এটি সম্ভব নয়। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।”

স্থানীয় বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম বলেন,
“যে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নেই, জাতীয় পতাকাও উত্তোলন করা হয় না, সেই প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর সরকারি বেতন উত্তোলন করা হচ্ছে। এটি রাষ্ট্রের অর্থের অপব্যবহার। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”
অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোছা. মিনারা বেগমের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডিমলা উপজেলা প্রশাসনের সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. আফরোজা বেগম বলেন
“আমি প্রতিষ্ঠানটি দেখি না। কোনো তথ্য চাইলে তথ্য দিই। বেতনের বিষয়টি আমার এখান থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় না। প্রতিষ্ঠানটি চলছে কি না, সেটিও আমি জানি না। ডিমলায় যোগদানের প্রায় দুই বছর হলেও আমি একদিনও ওই প্রতিষ্ঠানে যাইনি।”
এ বিষয়ে সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন,
“বিষয়টি মূলত ডিমলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দেখার কথা। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখব।”
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে শিক্ষার্থীহীন ও প্রায় পরিত্যক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে এতদিন উত্তোলিত সরকারি অর্থের হিসাব প্রকাশ ও দায়ীদের কাছ থেকে অর্থ পুনরুদ্ধারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply