5:59 pm, Tuesday, 22 September 2026

টেকনাফে মানবপাচার চক্রের কবল থেকে ৫ জন উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ:

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচার চক্রের কবল থেকে পাঁচজনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫-এর সিপিসি-১ টেকনাফের একটি আভিযানিক দল। এ ঘটনায় চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এসআরবি-১৫-এর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীদের টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট সমুদ্রসৈকতসহ বিভিন্ন এলাকা ঘোরানোর কথা বলে সিএনজি অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এক আসামির বাড়িতে রাতযাপনের কথা বলে তাদের চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে ভুক্তভোগীদের শারীরিক নির্যাতন করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পাশাপাশি নৌপথে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে অভিযান শুরু করে এসআরবি-১৫-এর সিপিসি-১ টেকনাফের আভিযানিক দল।

এর ধারাবাহিকতায় রোববার ভোর ৫টার দিকে টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন খনকারপাড়া ঘাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মানবপাচার চক্রের সদস্য মো. আনাস ওরফে মুন্নাকে (১৯) গ্রেপ্তার এবং পাঁচ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়।

উদ্ধার হওয়া পাঁচজন হলেন—আল আমিন কাউসার (১৮), মো. রাশেদ (২০), সাকিবুল হাসান সাকিব (১৮), মো. সাইফুল ইসলাম (১৬) ও মো. আব্দুল্লাহ (১৬)।

গ্রেপ্তার আনাস ওরফে মুন্না টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ছোট হাবিবপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি আবদুর রহিম ও হাসিনা আকতার দম্পতির ছেলে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি চক্রের পলাতক ও অজ্ঞাতনামা সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক পরিচিতি

জনপ্রিয় পোস্ট

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ: ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনে হয়রানী ও বৈষম্যের প্রতিবাদে চার মৌজাবাসীর মানববন্ধন

টেকনাফে মানবপাচার চক্রের কবল থেকে ৫ জন উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

আপডেটের সময় : 02:54:42 pm, Sunday, 20 September 2026

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ:

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচার চক্রের কবল থেকে পাঁচজনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫-এর সিপিসি-১ টেকনাফের একটি আভিযানিক দল। এ ঘটনায় চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এসআরবি-১৫-এর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীদের টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট সমুদ্রসৈকতসহ বিভিন্ন এলাকা ঘোরানোর কথা বলে সিএনজি অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এক আসামির বাড়িতে রাতযাপনের কথা বলে তাদের চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে ভুক্তভোগীদের শারীরিক নির্যাতন করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পাশাপাশি নৌপথে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে অভিযান শুরু করে এসআরবি-১৫-এর সিপিসি-১ টেকনাফের আভিযানিক দল।

এর ধারাবাহিকতায় রোববার ভোর ৫টার দিকে টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন খনকারপাড়া ঘাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মানবপাচার চক্রের সদস্য মো. আনাস ওরফে মুন্নাকে (১৯) গ্রেপ্তার এবং পাঁচ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়।

উদ্ধার হওয়া পাঁচজন হলেন—আল আমিন কাউসার (১৮), মো. রাশেদ (২০), সাকিবুল হাসান সাকিব (১৮), মো. সাইফুল ইসলাম (১৬) ও মো. আব্দুল্লাহ (১৬)।

গ্রেপ্তার আনাস ওরফে মুন্না টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ছোট হাবিবপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি আবদুর রহিম ও হাসিনা আকতার দম্পতির ছেলে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি চক্রের পলাতক ও অজ্ঞাতনামা সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।