
চাঁদপুর প্রতিনিধি:
চাদপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব মো. মোশারফ হোসাইন বলেছেন, বর্তমান প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলা মানুষকে শৃঙ্খলাবোধ, সৌহার্দ্য ও নেতৃত্বের শিক্ষা দেয়। একই সঙ্গে শিক্ষা ও সংস্কৃতিচর্চা একটি জাতিকে আলোকিত করে এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে। তাই প্রতিটি এলাকায় নিয়মিত ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন হওয়া উচিত। খেলাধুলা, শিক্ষা ও সংস্কৃতিচর্চার বিকাশের মাধ্যমে সচেতন, মানবিক এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে চাঁদপুর পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ গুনরাজদী এলাকায় অনুষ্ঠিত সিনিয়র-জুনিয়র প্রীতি ফুটবল ম্যাচের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলহাজ্ব মোঃ মোশাররফ হোসাইন আরও বলেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে চাঁদপুর পৌরসভার সবচেয়ে অবহেলিত এই ১২ নং ওয়ার্ডের গুনরাজদি এলাকা। এখানকার মানুষদের এখনো বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হয়, এটি আমাকে অবাক করেছে। মহান আল্লাহ যদি আমাকে চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র হিসেবে কবুল করেন, তবে আমি এই এলাকার দুর্ভোগ সমাধান বিশেষ গুরুত্ব দিবো। আপনাদের ট্যাক্সের টাকায়, আপনাদের শতভাগ নাগরিক-সেবা নিশ্চিত করব।

তিনি বলেন, আমি পৌরসভার মেয়র হতে নয়, পৌরবাসীর সেবক হতে চাই। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন পেলে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য একটি চাঁদপুর পৌরসভা গড়ে তুলতে কাজ করব। প্রতিটি ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও নাগরিক দুর্ভোগ নিরসনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। উন্নয়নের সুফল যেন প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়, সেটিই হবে আমার অঙ্গীকার।
তিনি আরো বলেন, আমাদের চাঁদপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির অভিভাবক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাই চাঁদপুরে উন্নয়নের নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি সত্যিকারের অর্থে একটি উন্নয়ন মুখোমুখি চাঁদপুরের স্বপ্ন দেখছেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী একজন যোগ্য পৌর মেয়র আমাদের প্রয়োজন। আপনারা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবেন, যার দ্বারা চাঁদপুর বাসির উন্নয়ন হবে, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হবে, তেমন একজন ব্যক্তিকে যেন আল্লাহ পৌরসভার মেয়র হিসেবে কবুল করেন।
এর আগে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রীতি ফুটবল ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে কোনো দল গোলের দেখা না পাওয়ায় ট্রাইব্রেকারের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণ করা হয়। ট্রাইব্রেকারে জুনিয়র একাদশকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে সিনিয়র একাদশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
খেলা শেষে প্রধান অতিথি আলহাজ্ব মো. মোশারফ হোসাইন বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি এবং মেডেল তুলে দেন। খেলায় প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করেন রোটন। লাইন্সম্যান ছিলেন লিটন পাটোয়ারী ও হাবিব তহসিলদার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ৮ নং বাগাদী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম পাঠান, এলাকার মুরব্বি মুজিব তহসিলদার, মালেক তহসিলদার, খালেক পাটোয়ারী, দেলু তহসিলদার, স্বপন গাজী, লিটন পাটোয়ারী, মাইনুদ্দিন পাটোয়ারী, হানিফ পাটোয়ারী, নান্টু পাটোয়ারী, হামিদ পাটোয়ারী, আজিত পাঠান, হাবিব তহসিলদার, মোস্তফা হালদার, কবির তহসিলদারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।